জঙ্গিদের নিশানায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি: টুঙ্গিপাড়ায় ঝটিকা অভিযানের মহাপরিকল্পনা
সারাদেশে শয়তানের খোঁজ চলছে, ধরা পড়ল কত!
১০ নভেম্বর আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষনা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ‘কিশোর গ্যাং বলল আওয়ামীলীগ
এই আন্দোলন এখন নিরীহ মানুষ হত্যার বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন
১০ শতাংশ ভোটার কমাতে সক্ষম হয়েছে বিএনপি
মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন: কেঁদে কেঁদে মিজান বললেন, ‘জাতির কাছে বিচার দিতে এসেছি’
এডিসি হারুনের পরিবার বিএনপি-জামায়াত: রাব্বানী
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন : সরগরম হয়ে ভারতের গণমাধ্যম
জঙ্গি নাটক সাজিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ও ভারতকে দেখাতে চায় সরকার: মির্জা ফখরুল
জুলাই মাস জুড়ে চলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিচ্ছিন্ন নেতৃত্বের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। এবার ১৫৮ সদস্য বিশিষ্ট নতুন সমন্বয়ক টিম ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তাহলে কী তারা নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের দিকে এগোচ্ছে?
অসম্ভব কিছুই না। গত ১৬ বছর যাবৎ বিএনপি ও তাদের মিত্ররা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ সালে হেফাজতে ইসলাম ব্যাপক জনসমাগম করতে সমর্থ হয়। কিন্তু কোনো আন্দোলনই টলাতে পারেনি আওয়ামীলীগ সরকারকে। এ বছর জুলাই হত্যাকান্ডের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ নিজের গায়ে কালিমা লেপন করার পর সাধরণ ছাত্র ও আপামর জনতা সরকার উৎখাতের আন্দোলনে নেমেছে। উদ্দেশ্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জনগনের হাতে ফেরত নেয়া।
সরকার পতন যদি হয় তাহলে কে যাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়?
অপশন ১: বিএনপি
বিএনপির ইতিহাসে রয়েছে বহু কলঙ্গ। তারা এখনো সম্পূর্ণরূপে নিজেদেরকে স্বাধীনতা পন্থী দল হিসেবে জনগনের কাছে আত্মপ্রকাশ করতে ব্যর্থ। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী ভোটার বিহীন নির্বাচন করে ক্ষমতায় গিয়েছিল। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সকল নেতাকে হত্যা চেষ্টার সাথে বিএনপি জড়িত বলে দেশের মানুষ মনে করে। বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান পাহাড় পরিমাণ দূণীতির সাথে জড়িত। তাকে অনেকে খাম্বা তারেক বলেও জানে। বর্তমানে বিএনপি নেতৃত্বশূণ্য। তাদের সিনিয়র জ্ঞানী-গুনী নেতৃবৃন্দ অধিকাংশই মৃত্যুবরণ করেছেন। বিএনপির কর্মীদের সাথে কথা বললে মনে হয় তারা এক একটা সন্ত্রাসী। তাদের কথায় বোঝা যায় যে, আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হলে দেশে আওয়ামীলীগের নাম নিশানা মুছে ফেলবে বিএনপি। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর সারাদেশে হত্যা, গুম, লুটপাট, ধর্ষন শুরু করেছিল। যার প্রেক্ষিতে সারা দেশে সেনা মোতায়েন করেছিলেন খালেদা জিয়া। এ থেকে এ কথা বলা যায় যে, বিএনপির নেতৃত্বের সদিচ্ছা থাকলেও তার দলের কর্মীদের মধ্যে চরম সন্ত্রাসবাদী মনোভাব এখনো বিরাজ করছে। যা দমন করার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নেই। এমতাবস্থায় জনগণ বিএনপি কে ভোট দিবে কিনা তা দেখার বিষয়।
অপশন ২: আওয়ামীলীগ
যে দলকে জনতা রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতা থেকে নামায় সেই দলকে দেশের মানুষ পুনরায় নির্বাচিত করবে বলে মনে হয় না। গত তিন বার ভোট বিহীন নির্বাচনে প্রশাসনের সহায়তায় ক্ষমতা দখল করেছে আওয়ামীলীগ। সরকারী মন্ত্রী-এমপি, আমলাদের পাহাড় পরিমাণ দূণীতি ও বিদেশে অর্থ পাচারের কারণে দেশের অর্থণীতি আজ ভেঙ্গে পড়েছে। হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের সময় বহু মানুষকে হত্যা করেছে তাদের পুলিশ। বিএনপি সহ বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মীদের গত পনের বছর যাবত আটক করে অমানুষিক নির্যাতন করে হাজত খাটিয়েছে। অসুস্থ্য নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বার বার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার বাধা দিয়েছে সরকার। কোটা ও দূণীতির মাধমে নিয়োগের কারণে দেশে চরম বেকার সমস্যা দেখা দিয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের আকাশ ছোয়া মূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগ ও পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে শত শত ছাত্র হত্যা, হাজার হাজার ছাত্রকে আহত করা। চরম মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে মন্ত্রীদের উল্টোপাল্টা কথা বলা। হত্যার জন্য কোনো সহানুভুতি না দেখিয়ে অবকাঠানো ধ্বংসের কারণে কান্নাকাটি করা। ইত্যাদি কারণে আওয়ামীলীগকে মানুষ পুনরায় ক্ষমতায় পাঠাবে বলে মনে হয় না।
অপশন ৩: জাতীয় পার্টি
জাতীয় পার্টির প্রধান সমস্যা দূর্বল নেতৃত্ব। সরকারের দালালী। জনগণের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিতে ব্যর্থ জাতীয় পার্টিকে জনগন ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসাবে কিনা তার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
অপশন ৪: ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন
এই দলটি একটি ধর্ম ভিত্তিক দল। তারা ক্ষমতায় গেলে দেশে কী ধরনের শাসনব্যবস্থা কায়েম করবে তা মানুষের এখনো অজানা। এই দলে রাজনীতি-অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ের ব্যাকগ্রাউন্ডের নেতার সংখ্যা কম। কাজেই আধুনিক যুগের শুধুমাত্র ধর্মভিত্তিক দলকে দেশের মানুষ কীভাবে নিবি তা দেখার বিষয়। যেহেতু প্রতিবেশী দেশ ভারতে ধর্মভিত্তিক দল বার বার ক্ষমতায় যাচ্ছে, সে হিসেবে ইসলামী শাসনতন্ত্র ক্ষমতায় যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা দেখি না। জনগনকে তাদের উদ্দেশ্যে বোঝাতে সক্ষম হলে এবং জনগণ তা বুঝে নিয়ে মেনে নিলে তাদের সুযোগ থাকবে সরকার গঠনের।আরও পড়ুন : সাপের নাম রাসেল ভাইপার কেন আরও পড়ুন : ভারত হাসিনা সরকার টিকিয়ে রাখার কে?
অপশন ৫: ছাত্র-জনতা পরিষদ
এই নামে এখনো কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকাশ ঘটেনি। বর্তমানে ছাত্র-জনতা আন্দোলন করছে সরকার পতনের জন্য। তাদের সাথে আছে বুদ্ধিজীবি, শিক্ষক, সাংবাদিক, পেশাজীবি, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ। যদিও অন্যান্য রাজনৈতিক দল এই আন্দোলনকে সমর্থন দিচ্ছে এবং তাদের অনেক কর্মীও ছাত্রদের পিছনে পিছনে আছে। এই দলে রয়েছে দেশের উচ্চ শিক্ষিত, জ্ঞানী-গুনী ব্যক্তি বর্গ। যদি তারা তরুনদের হাতে রাষ্ট্রে ক্ষমতা নেয়ার জন্য দায়িত্ব দেন তবে এই দলের আত্মপ্রকাশ ঘটতে পারে। ইতোমধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ১৫৮ সদস্য বিষিষ্ট জাতীয় কমিটি ঘোষনা করেছে। এই কমিটির বহু উপ কমিটি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রবল। তারা যদি একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে এবং জনগণের চাহিদা মোতাবেক এজেন্ডা নিয়ে আসতে পারে তাহলে তাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
দেশের মানুষের যেসব চাওয়া থাকতে পারে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে-
১) যেসব রাজনৈতিক নেতা মৃত্যুবরণ করেছেন যেমন, বঙ্গবন্ধু, জিয়াউর রহমান, এরশাদ, তাদের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা যাবে না। তাদের ভাল গুন নিয়েই কেবল কথা বলা যাবে।
২) ১৯৭১ সালে কে মুক্তিযোদ্ধা ছিল, কে রাজাকার ছিল এসব বিষয় নিয়ে রাজনীতি করা যাবে না, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানাতে হবে, যে কোন ব্যক্তির অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি না করে এখন তিনি দেশের জন্য কী করতে চান তা শুনতে হবে।
৩) স্বাধীনতা পন্থী, স্বাধীনতা বিরোধী এসব বিষয় নিয়ে রাজনীতি করা যাবে না, কারণ এগুলো ধমীয় রাজনীতি বা মৌলবাদের শামিল।
৪) বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতাকে মেনে নিতে হবে, যেভাবে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে আমরা মেনে নিয়েছি। বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতাকে বিক্রি করে এদেশে কোনো রাজনীতি করা যাবে না।
৫) ২০২৪ সাল পর্যন্ত সকল রাজনৈতিক দলের পিছনের ভুল কর্মকান্ড নিয়ে দোষারোপ করা যাবে না, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সবাই সবার পরিকল্পনার কথা বলতে হবে।
৬) দেশে দূনীতি সমূলে উৎপাটন করতে হবে। সবাইকে সত্যিকার অর্থে আন্তরিকতা দেখাতে হবে।
৭) শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে হবে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন করতে হবে।
৮) এখনকার রাজনীতি হবে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন নিয়ে, মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন নিয়ে।
৯) রাষ্ট্রপতি জনগনের পক্ষে দেশের মালিক। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদ, আমলা সবাই জনগনের চাকর। তাই জনগনের সাখে শ্রদ্ধার সাথে আচরণ করতে হবে।
১০) এদেশে কেউ একজন রাজা নন। আমরা সবাই রাজা। দেশের প্রত্যেকটি মানুষ যাতে তার জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা পায় এবং নিশ্চয়তা পায় তার ব্যবস্থা করতে হবে।
এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করা গেলে দেশের উন্নয়ন অশসম্ভাবী। এবার সরকার পতনের আন্দোলন কতদূর যায় এবং সত্যিই সরকার পতন হলে কোনো রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে কিনা তা দেখার বিষয়।
-মতামত